More

    উজিরপুরে ফাকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ধাওয়া খেলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান

    অবশ্যই পরুন

    পটুয়াখালীতে ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড

    উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে পটুয়াখালী সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর বেশ উত্তাল রয়েছে। বাতাসের চাপ আগের চেয়ে কিছুটা...

    স্বাস্থ্যবিধি না মানায় কলাপাড়ায় ৩৪ জনকে অর্থদন্ড

    পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় লকডাউন অমান্য করায় এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ৩৪ জনকে অর্থদন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার বেলা সাড়ে ১১...

    বরিশালে অতিভারি বৃষ্টির আভাস: সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা

    বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি আরও শক্তি সঞ্চয় করে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের (খুলনা, সাতক্ষীরা ও যশোর) স্থলভাগে...

    ব্রিজ না করেই লাখ টাকা লোপাট: সাঁকোর ছবি ভাইরাল

    উদয়কাঠি ইউনিয়নের বাসিন্দা, বরিশাল জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান এবং বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাওলাদ হোসেন সানা...

    প্রথম ধাপে আগামী ১১ এপ্রিল বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা, জল্লা, ওটরা, শোলক ও বড়াকোঠা ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে শোলক ইউনিয়নে আ’লীগের মনোনিত নৌকার প্রার্থী আব্দুল হালিম সরদার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বি বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের (চরমোনাই) মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো: শফিকুল ইসলাম স্বপন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ায় নৌকার প্রার্থী নির্বাচিত হন। সেখানে চেয়ারম্যান পদ ব্যতীত সংরক্ষিত নারী সদস্য ও সাধারণ সদস্য পদের বিপরীতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপের এই নির্বাচনে ভোটাররা প্রার্থীদের নিয়ে যতটা না আলোচনা করছে, তার চেয়ে বেশি সশস্ত্র সন্ত্রাসী ও চরমপন্থীদের নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। প্রায় প্রতিরাতেই চিহ্নিত অস্ত্রধারীরা নির্বাচনী এলাকাগুলোতে অবস্থান নিয়ে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে এবং বাড়িবাড়ি গিয়ে ভোটারদের হুমকি দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। সবশেষ গতকাল রোববার (২৮ মার্চ) রাতে নির্বাচনি এলাকা উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের মশাং বাজারের পূর্বপাড় বটতলাহাট নামকস্থানে গোলাগুলি ও ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সেখানে নৌকার সমর্থক-এলাকাবাসী এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবালসহ তার লোকজনের মধ্যে ওই ঘটনা ঘটে।

    ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক স্থানীয়রা জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবালসহ তার লোকজন নির্বাচনের শুরু থেকেই ওটরা ইউপির নৌকার প্রার্থী ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক রাঢ়ীর বিরুদ্ধে অবস্থান করে প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী (আনারস) ফিরোজ খানের পক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় নৌকার বিরোধীতাকারি আ’লীগ নেতা হাফিজুর রহমান ইকবাল তার লোকজন নিয়ে রোববার রাত ৯টার দিকে মশাং বাজারের পূর্বপাড় বটতলাহাট নামকস্থানে অবস্থান নেয়। সেখানে কয়েকটি বাড়িতে গিয়ে আ’লীগ নেতা ইকবাল নিজের লাইসেন্সকৃত ও অবৈধ অস্ত্র দেখিয়ে সাধারণ ভোটারদের আনারস মার্কায় ভোট দিতে হুমকি দেন। একপর্যায়ে তিনি (ইকবাল) ওই এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলিও ছোড়েন। এ সময় স্থানীয় নৌকার সমর্থকরা ও এলাকাবাসী মিলে ধাওয়া দিলে অস্ত্রধারী ইকবালসহ তার বাহিনী পালিয়ে গণপিটুনি থেকে কোনমতে নিজেদের রক্ষা করে। এই ঘটনা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে গোটা এলাকায় জুড়ে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    এ বিষয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারি উজিরপুর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাইনুল ইসলাম স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, গোলাগুলি কিংবা ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়ার মতো কোন ঘটনা সেখানে ঘটেনি। কয়েকজন লোক নিয়ে ওই এলাকার একটি দোকানে আ’লীগ নেতা হাফিজুর রহমান ইকবাল অবস্থান করেছিলেন। সে সময় নৌকার সমর্থকরা তাদের দিকে এগিয়ে আসলে আ’লীগ নেতা ইকবালসহ অন্যরা চলে যান।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাধারণ সদস্য পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে নৌকার প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. খালেক রাঢ়ীর বিরুদ্ধে একই ইউপির বাসিন্দা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবাল অবস্থান নিয়েছেন। ভোটের মাঠে নৌকার প্রার্থীকে বিপাকে ফেলতে স্বতন্ত্র প্রার্থী (আনারস) ফিরোজ খানের পক্ষালম্বন করে আ’লীগ নেতা ইকবাল নিষিদ্ধ ঘোষিত সশস্ত্র সর্বহারা নেতাদের দিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করছে। তবে অস্ত্রধারী বহিরাগতদের আনাগোনার বিষয়ে আইনশৃংঙ্খলা বাহিনী অবগত থাকলেও রহস্যজনক কারণে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। যার কারণে প্রথম ধাপের এই নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে তা নিয়ে ভোটারদের মনে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ওটরা ইউপির নৌকার প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. খালেক রাঢ়ী অভিযোগ করে জানান, নানা অপকর্মে সমালোচিত এক সময়ের চিহ্নিত চাঁদাবাজ হাফিজুর রহমান ইকবালের নেতৃত্বে নিষিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা পার্টির চিহ্নিত সাবেক সদস্যরা প্রতিদিন অবৈধ অস্ত্র নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের হুমকি দিচ্ছে। যার কারণে এ ইউনিয়নের ভোটারদের আতঙ্কে দিন কাটছে।

    এছাড়া প্রতিদিনই আনারস প্রতীকের প্রার্থী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা ফিরোজ খানের পক্ষে বিতর্কিত আ’লীগ নেতা ইকবাল তার লোক নিয়ে সশস্ত্র অবস্থায় এলাকায় গণসংযোগ করে যাচ্ছে। বিষয়টি স্থানীয় থানা পুলিশসহ বরিশাল জেলা পুলিশ সুপারের কাছে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে বলে যোগ করেন এই আওয়ামী লীগ নেতা।

    এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবালের সাথে যোগাযোগের জন্য তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    উপজেলা রির্টানিং ও নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আলীমদ্দিন জানিয়েছেন, ওটরা ইউপিতে রোববার রাতের ঘটনানি শুনেছি। তবে এ বিষয়ে প্রার্থীর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া কোন প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা যাতে ভোটারদের হুমকি দিতে না পারে সে বিষয়েও প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো হবে।’

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    পটুয়াখালীতে ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড

    উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে পটুয়াখালী সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর বেশ উত্তাল রয়েছে। বাতাসের চাপ আগের চেয়ে কিছুটা...