More

    ঘর না পেয়ে ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় ভিক্ষুকের পরিবারকে জখম

    অবশ্যই পরুন

    পটুয়াখালীতে ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড

    উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে পটুয়াখালী সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর বেশ উত্তাল রয়েছে। বাতাসের চাপ আগের চেয়ে কিছুটা...

    স্বাস্থ্যবিধি না মানায় কলাপাড়ায় ৩৪ জনকে অর্থদন্ড

    পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় লকডাউন অমান্য করায় এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ৩৪ জনকে অর্থদন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার বেলা সাড়ে ১১...

    বরিশালে অতিভারি বৃষ্টির আভাস: সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা

    বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি আরও শক্তি সঞ্চয় করে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের (খুলনা, সাতক্ষীরা ও যশোর) স্থলভাগে...

    ব্রিজ না করেই লাখ টাকা লোপাট: সাঁকোর ছবি ভাইরাল

    উদয়কাঠি ইউনিয়নের বাসিন্দা, বরিশাল জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান এবং বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাওলাদ হোসেন সানা...

    পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ‘জমি আছে ঘর নেই প্রকল্পে’র ঘর পাইয়ে দিতে এক নারী ভিক্ষুকের কাছে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাহাজান (৪৫) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তবে ঘর না পেয়ে কমেলা খাতুন নামের ওই নারী ওই টাকা ফেরতের দাবি করে আসছিলেন। মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ওই নারী সাইফুল নামে তার জামাইকে টাকা ফেরত আনতে শাহজাহানের কাছে পাঠান। এতে শাহজাহান উত্তেজিত হয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করেছে। ছেলেকে বাঁচাতে এসে সাইফুলের বাবা-মাও গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় জন প্রতিনিধিরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    অভিযুক্ত শাহজাহান আলী ও ভিক্ষুক কমেলা খাতুন (৬০) উপজেলার ময়দান দিঘী ইউনিয়নের রমানাথপুর গ্রামের বাসিন্দা।

    বর্তমানে আহতরা ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহজাহান আলী।

    কমেলা খাতুনের পরিবারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৩০ বছর আগে স্বামী নিখোঁজ হওয়ায় মানুষের বাড়িতে কাজ করে চার সন্তানকে অনেক কষ্টে মানুষ করেন কমেলা খাতুন। সন্তানরা বিয়ের পর নিজেদের সংসার শুরু করায় আবারও একা হয়ে পড়েন তিনি। শরীরে শক্তি না থাকায় বাঁচার তাগিদে ভিক্ষবৃত্তি শুরু করেন তিনি। গত বছরের শুরুর দিকে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ‘জমি আছে ঘর নেই প্রকল্পে’ ময়দানদিঘী ইউনিয়নে পাঁচটি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানতে পারেন কমেলা। এর একটা ঘর পেতে তিনি আওয়ামী লীগ কর্মী ও স্থানীয় চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠজন শাহজাহানের কাছে আবদার করেন। শাহজাহান চেয়ারম্যানকে ম্যানেজ করে ঘর পাইয়ে দিতে তার কাছে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। কিন্তু অত টাকা দেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় বৃদ্ধার অনুরোধে ৫ হাজার টাকায় কাজ করতে রাজি হন শাহজাহান। বাধ্য হয়ে কমেলা ভিক্ষা করে জমানো পাঁচ হাজার টাকা তার মেয়ে জামাই সাইফুলের মাধ্যমে শাহজাহানের হাতে তুলে দেন।

    কমেলার মেয়ে জামাই সাইফুল দাবি করেন, পাঁচ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে দীর্ঘদিনেও ঘর না পাওয়ায় বেশ কয়েকবার শাহজাহানের কাছে টাকা ফেরত চান তিনি ও তার শাশুড়ি। সর্বশেষ মঙ্গলবার আবারও ওই টাকা ফেরত চাইতে শাহাজাহানের বাড়িতে গেলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর শুরু করে। এসময় সাইফুলের বাবা গফুর (৬৫) এগিয়ে গেলে ধারালো কিছু দিয়ে তাকে আঘাত করে শাহজাহান। আঘাতে তার বাবার হাতে গুরুতর জখম হয়। এসময় তার মা সাকেরা বেগম (৫৫) এগিয়ে আসলে তাকেও মারধর করা হয়।

    আহত গফুর ঘটনার বিচার চাইতে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের কাছে গেলে তিনি প্রথমে তাদের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠান।
    ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, খুবই মারাত্মক আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় ঐ বৃদ্ধ আমার কাছে আসেন। তার হাত থেকে রক্ত পড়ছিল এবং পিঠে রড জাতীয় কোনও বস্তু দিয়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার সঙ্গে থাকা মহিলাদেরও জঘন্যভাবে মারা হয়েছে। ঘটনা যাই হোক বৃদ্ধ ব্যক্তিকে এমন মারধর করা জঘন্য কাজ। তাদেরকে পুলিশের কাছে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।

    টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করলেও মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেছেন শাহজাহান আলী। তিনি বলেন, ঘর দেওয়ার নাম করে আমি কোনও টাকা নেই নাই। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। মিথ্যা অভিযোগ নিয়ে তারা আমার বাড়িতে আসলে একটু হাতাহাতি হয়েছে।

    ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার মো. আব্দুল হান্নান জানান, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। একজনের জখম বেশি হওয়ায় সেলাই দিতে হয়েছে। সকলেই চিকিৎসাধীন আছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী চিকিৎসা দেওয়া হবে।

    ময়দানদিঘী বিট পুলিশিংয়ের বিট কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক রমজান আলী বলেন, এলাকাবাসীর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে আহতদের বিষয়ে খোঁজ নিতে হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি।
    চিকিৎসাসেবা শেষে তিনি তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।

    ময়দানদিঘী ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আসাদুর রহমান আসাদ বলেন, ইউনিয়নের সকলেই আমার লোক। কেউ যদি কোনোও সুবিধা দেওয়ার কথা বলে টাকা আদায় করে সেটা আমার অজান্তে হয়েছে।
    তবে ওই বৃদ্ধাকে ঘর দেওয়ার কোনও প্রতিশ্রুতি দেননি চেয়ারম্যান।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    পটুয়াখালীতে ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড

    উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে পটুয়াখালী সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর বেশ উত্তাল রয়েছে। বাতাসের চাপ আগের চেয়ে কিছুটা...