More

    বাউফলে স্বাস্থ্যকর্মীকে লাঞ্ছিত করলেন সেই বিতর্কিত চেয়ারম্যান

    অবশ্যই পরুন

    বরিশালে করোনায় একদিনে আরও ৭ জনের প্রাণহানি

    বরিশাল বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে করোনায় তিনজন...

    বাউফলে প্রসূতির সিজার করেন ওয়ার্ড বয়: প্রয়োগ করা হয় সরকারি ওষুধ

    পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালিশুরী বন্দরে মাজেদা মেমোরিয়াল ক্লিনিকে ওয়ার্ড বয় দিয়ে সিজার অপারেশন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই...

    দেবিদ্বারে অসহায় দিন মজুরের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন স্বেচ্ছাসেবকলীগের ১০১ টিম

    কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের১০১ টিম সদস্যরা এক অসহায় দিন মজুরের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন। বুধবার সকালে দেবিদ্বার উপজেলার জাফরাবাদ গ্রামের দিনমজুর...

    করোনাভাইরাসঃ বরিশালে একদিনে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে ২০ জনের মৃত্যু

    করোনায় বরিশালে বিভাগে আরও ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজসহ (শেবাচিম) বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে...

    সারাদেশের ন্যায় পটুয়াখালীর বাউফল উপজেল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নে কোভিড-১৯ ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেইন পরিচালনা করতে গিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা আলোচিত সেই ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারের অসদাচরণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও আল-আমিন শিকদার নামের একজন স্বাস্থ্য কর্মীকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আল-আমিন শিকদার কনকদিয়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের স্বাস্থ্য সহকারী। তিঁনি কনকদিয়া ইউনিয়নের ঝিলনা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারেক শিকদারের ছেলে।

    চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে অসচ্ছলদের চাল আত্মসাৎ, সরকারি কর্মকর্তাকে মারধর, সালিশের সুযোগ নিয়ে ১৪ বছরের কিশোরীকে বিয়েসহ এলাকায় নানান ধরনের অভিযোগ রয়েছে।

    সূত্রমতে, সারাদেশে কোভিড-১৯ ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেইন পরিচালনা জন্য প্রথম সরকারি ঘোষণা ছিলো ১৮ বছরের ওপরে সকলে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে সংশ্লিষ্ট টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে টিকা নিতে পারবেন। পরবর্তীতে সরকার থেকে ঘোষণা আসে সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে আবেদনের প্রেক্ষিতে শুধুমাত্র ২৫ বছর ও তার ওপরের নাগরিক গণটিকা নিতে পারবেন। প্রতি ইউনিয়নে ৬০০ টিকা প্রদানের মাধ্যমে ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৭ আগস্ট) সকাল ৯ টায় কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদে কোভিড-১৯ ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। সেই ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব ছিলেন একজন সুপার ভাইজারসহ ৪ জন স্বাস্থ্যকর্মী। গ্রামাঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষ স্বল্পশিক্ষিত হওয়ায় তারা অনলাইন আবেদন সম্পর্কে না বুঝে অনলাইন স্লিপ ছাড়া শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে টিকা নিতে ভীড় জমায়। স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রত্যেককে অনলাইন আবেদন করতে সহযোগিতা করে টিকা দিতে থাকে। আইডি কার্ড রেখে অনলাইন আবেদন ছাড়া টিকা না দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে যান চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার। হঠাৎ করেই চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার ইউনিয়ন পরিষদে এসে স্বাস্থ্য কর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন ও আল-আমিন নামের ওই স্বাস্থ্য কর্মীকে চড় থাপ্পড় মেরে লাঞ্ছিত করেন।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন স্বাস্থ্য কর্মী বলেন, “চেয়ারম্যান এসে বিষয়টা জানতে চাইলে আমরা তাঁকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলতে পারতাম। কিন্তু সে আমাদের কোন কথা না শুনে আমাদের তুই তামারি ভাষা করে এবং অকথ্য ভাষায় গাল মন্দ করেন। আল আমিন নামে আমাদের আরেকজন স্বাস্থ্য কর্মীকে চর থাপ্পড় মারেন। আমরা বিষয়টি উপরস্থ কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।”

    লাঞ্ছিত হওয়া সেই স্বাস্থ্য কর্মী আল-আমিন শিকদার বলেন, ‘‘আমরা আমাদের উপরস্থ কর্মকর্তাদের নির্দেশ মেনে অনলাইন আবেদনের প্রেক্ষিতে টিকার কার্যক্রম পরিবালনা করছিলাম। হঠাৎ আনুমানিক ১১ টার দিকে চেয়ারম্যান এসে আমাদের সুপারভাইজার তাসলিমা নাসরিন আপাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল দিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে চেয়ারম্যান চিল্লাচিল্লি করতে করতে বলে এই নিয়ম পাইছো কই? অনলাইন মানি না, এনআইডি রেখে টিকা দিতে হবে। যদি তেমন না হয় তাহলে আমাদের কমিটি করা হইলো কেন। এরপরে হঠাৎ তিঁনি আমার ওপরে চড়াও হন এবং আমাকে মারধর করেন। বিষয়টি আমি আমার উপরস্থ কর্মকর্তাদের জানিয়ে, তাঁরা এ বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিবেন বলে আমাদের কম জানিয়েছেন।

    কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি কাউকে লাঞ্ছিত বা গালমন্দ করি নি। আমার সাথে সামান্য কথা-কাটাকাটি হয়েছে কারণ তাঁরা নিয়ম বহির্ভূত ভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছিলো। আমি তাঁদের সাথে একটা বিষয়ে ডাকাডাকি করেছি তা হলো স্বাস্থ্য ক্ষাতে বাংলাদেশে সব থেকে বেশি দুর্নীতি হয়। ইউএনওসহ মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের টিকা প্রদানের কথা থাকলেও তাঁরা অন্যান্য ওয়ার্ডের যেমন ৬ ও ৭ নং ওয়ার্ডের লোকজন, তাঁদের (স্বস্থ্য কর্মী) আত্মীয়-স্বজনদের টিকা দিচ্ছিলো। আমি বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সাহাকে জানালে তিঁনি প্রতিবাদ করতে বলেন। তখন আমি স্বাস্থ্যকর্মীদের এভাবে টিকাদানে নিষেধ করলে সামান্য কথা-কাটাকাটি হয়।’

    উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমান সাহা বলেন, ‘স্বাস্থ্য কর্মীদের সাথে দুর্ব্যবহার করেছে, গালমন্দ করেছি শুনেছি। এ বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হবে তবে গায়ে হাত দেয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। গায়ে হাত দেয়ার ব্যাপারে আল-আমিন আমাকে কিছু বলে নাই।’

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    বরিশালে করোনায় একদিনে আরও ৭ জনের প্রাণহানি

    বরিশাল বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে করোনায় তিনজন...